রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

ফাইসজষ্টিগ্মা-Physostigma

আরোগ্য হোমিও হল / ২৪০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫, ১১:২০ অপরাহ্ন
materia-medica
হোমিও বই

ফাইসজষ্টিগ্মা (Physostigma)

চলতি নাম – কালাবার বীন ( Calabar Bean)

ডা: উইলিয়াম বরিক।

এই ঔষধ এবং ইহার উগ্রবীর্য ইসেরিণ মেটিরিয়া মেডিকার একটি মুল্যবান সংগ্রহ। ইহা হৃৎপিণ্ডকে উত্তেজিত করি, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং হৃৎপিণ্ডের সঙ্কোচক গতি বাড়াইয়া তুলে। চক্ষুতারকা এবং চক্ষুপেশীসমুহের সঙ্কোচন ঘটায় ইহা দ্বার স্বল্প-দৃষ্ট রোগের সৃষ্টি হয়। মেরুদণ্ডের উত্তেজনা, চলচ্ছক্তিহীনতা, অবসাদ তৎসহ মেরুদণ্ডের অস্থিতে স্পর্শকাতরতা। বিশেষ বিশেষ স্থানে কম্পন। পেশীসমুহের কঠিনতা, পক্ষাঘাত। মেরুমজ্জার গতি এবং প্রতিক্রিয়া শক্তি কমাইয়া ফেলে ফলে বেদনা অনুভব করার ক্ষমতা কমিয়া যায়। পেশীসমুহ দুর্বল হইতে থাকে এবং ক্রমে পক্ষঘাত দেখা দেয়। কিন্ত মাংসপেশীসমুহ সঙ্কোচন শক্তির খর্ব হয় না। পক্ষাঘাত, কম্পন ও তাণ্ডব রোগ। মস্তিস্ক ঝ্ল্লীর উত্তেজনা,তৎসহ পেশীসমুহের কঠিনতা। ধনুষ্টঙ্কার এবঙ হনুস্তন্ত। মেরুমজ্জার প্রদাহ। ইসেরিণ চক্ষুতারকার সঙ্কোচন বিধানের জন্য বাহ্যিকভাবে ব্যবহার হয়।

মস্কক : মস্ককের উপরিভাগে অবিরাম বেদনা। শিরঃঘুর্ণন তৎসহ মস্তকের সঙ্কোচন বোধ। অক্ষিকোটরের উপরে বেদনা, চক্ষুপাতা তুলিতে পারে না। মস্তিস্ক-মেরুমজ্জার ঝিল্লী-প্রদাহ। ধুনষ্টঙ্কারবৎ কঠিনতা। মুখমণ্ডলের পেশী টানিয়া ধরে।

চক্ষু : নিশন্ধতা (বিপরীত বোধ্রপস) আলোকতঙ্ক। চক্ষুতারকার সঙ্কোচন, চক্ষুপেশীর কর্তন। চক্ষুপাতা বন্ধ করিবার শক্তিহীনতা। চক্ষুর সম্মুখে মক্ষিকার ন্যায় আসমান অলীক পদার্থ দর্শন, চক্ষুর সম্মুখে আলোকের ক্ষণিক প্রভা দেখে আংশিক অন্ধতা। ধুম দৃষ্টি, চক্ষুর আলোক গ্রহণ ক্ষমতার আংশিক পক্ষাঘাত। বিকৃত দৃষ্টি। প্রচুর অশ্রুস্রাব। অক্ষিপুটের পেশী সমুহের আক্ষেপ, তৎসহ  চক্ষু ব্যবহারের পর উত্তেজনা। বর্ধনশীল  নিকট-দৃষ্টি। ডিপথেরিয়ার পরবর্তী চক্ষুর এবং আলোক গ্রহণকারী পেশীসমুহের পক্ষাঘাত।

আরও পড়ুন –  ফেরাম পিক্রিকাম-Ferrum Picricum

নাসিকা : পাতলা সর্দি, নাসারন্ধ্রে জ্বালা ও সুড়সুড়ি। নাসিকার অবরোধ ও উষ্ণতা। নাসারন্ধ্রের চারিদিকে জ্বর-ফোস্কা।

মুখগহ্বর : জিহ্বার অগ্রভাগ টাটানিযু্ত। মনে হয় যেন, গলা দিয়া টকটা গোলা ঠেলিয়া উঠিতেছে।

গলগহ্বর : গলদেশে প্রবল স্পন্দন অনুভুত হয়।

পাকস্থলী : আহারের অব্যবহিত পরেই তীব্র বেদনা। উদরোর্ধ্বপ্রদেশে চাপ দিলে বেদনা। বেদনা বক্ষদেশ ও বাহুর নিন্মভাগ পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে। পাকস্থলী স্নায়ুশূল, পুরাতন কোষ্ঠবন্ধতা।

স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় : অনিয়মিত ঋতুস্রাব, তৎসহ বুক ধড়ফড় করা। চক্ষুতে রক্ত সঞ্চয়। মাংসপেশীসমুহের কঠিন্যতা।

হৃৎপিণ্ড : নাড়ী ক্ষীণ, বুক ধড়ফড় করে। হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া আক্ষেপিক প্রকৃতির, তৎসহ সর্বাঙ্গে হৃৎস্পন্দন বক্ষদেশে এবং মস্ককে স্পষ্ট অনুভুত হয়। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন গলদেশে অনুভুত হয়। হৃৎপিণ্ডের মেদাপকর্য (কুপ্রামেএসেট)।

আরও পড়ুন –  র‌্যাক্স নং- ৭ (জন্ডিস) হোমিওপ্যাথিক কম্বিনেশন ঔষধ

হস্ত-পদাদি : দক্ষিণ জানুর পশ্চাভাগে বেদনা। মেরুদণ্ডে জ্বালা ও সুড়সুড়ি। হস্ত-পদ অসাড়। নিদ্রা যাইবার কালে হাতে পায়ে ঝঁকানি দিয়া উঠে। ধনুষ্টঙ্কারবৎ আক্ষেপ। কশেরুকা-মজ্জার ক্ষয়। পক্ষাঘাতগ্রস্ত অঙ্গে অসাড়তা। অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গে খিলধরা বেদনা।

সম্বন্ধ : তুলনীয় – ইরেরিণ – ফাইসজাষ্টিগ্মার উগ্র বীর্য (হৃদস্পন্দন কমাইয়া দেয় এবং ধমনীর চাপ বধিত করে। অক্ষিপুটের আক্ষেপ, অক্ষিপুটের পেশীসমুহের অক্ষমতাহেতু আক্ষেপিক বক্রদৃষ্টি । চক্ষুপাতার আক্ষেপ। চক্ষতারকার সঙ্কোচন। চক্ষুপাতা নাচিতে থাকে। চক্ষুগোলকে ব্যথা, চক্ষুর কাজ করিবার পর দৃষ্টির অস্পষ্টতা। চক্ষুর চারিদিকে ও মস্ককে বেদনা) বাহ্যিকভাবে চক্ষুতারকার সঙ্কোচনের জন্য বৃবহৃত হয়। এট্রোপিন দ্বারা চক্ষুতারকা প্রসারিত হইলে ইসেরিণ তাহা দ্বারা উপকার হয় না।  (আভ্যন্তরিকভাবে৬x প্রয়োগ করিবে)। ইসেরিণ স্যালিসিলেট (অস্ত্রোপাচারের পরবর্তি অন্ত্রের পক্ষাঘাত, উদরে বায়ু জন্মান। ১/৬০ হইত ১/৪০ গ্রেন মাত্রায় ইজেকশন)।

আরও পড়ুন –  অ্যাডাল-৪ (আর্থ্রাইটিস, পেশীর জয়েন্টের ব্যথা) হোমিওপ্যাথিক কম্বিনেশন পটেন্সি ড্রপ

আরও তুলনীয় – মাস্কেরিণ, কোনিয়াম, কিউরের, জেলস, থেবেইনাম (ধনুষ্টাঙ্কার), পাইপেরেজিনাম (মুত্রে ইউরিক এসিড, চুলকানি, গেঁটেবাত, মুত্র পাথুরী, অবিরাম পৃষ্ঠবেদনা। চর্ম শুস্ক, মুত্র অল্প। বাতজ সন্ধি-প্রদাহ। কার্বোনেটেড জলের সহিত প্রত্যহ ১ গ্রেন মাত্রার ব্যবহার্য। ১x ও ২x বিচুর্ণ প্রত্যহ তিনবার)।

দোষঘ্ন : এট্রোপিয়া। পুর্নমাত্রায় প্রয়োগ করিলে ফাইজষ্টিগমাজাত সকল ক্রিয়ার নাশ করিবে।

মাত্রা : ৩য় শক্তি। ইসেরিণের নিউট্রোল সালফেট ১ আউন্স জলে ২ হইতে ৪ গ্রেন মিশাইয়া বিন্দু বিন্দু করিয়া চক্ষুতে প্রবেশ করান হয়। ইহা দ্বারা চক্ষুতারকা সঙ্কুচিত হয়। চক্ষুতারার প্রস্রাবণ, চক্ষুতে আঘাত লাগা। চক্ষুর উপতারা প্রদাহ, কনীনিকার ক্ষত রোগে উপযোগী।

2454

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন লাইককমেন্ট করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev